ঢাকা , সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫ , ১৭ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সংখ্যালঘু নির্যাতনে ভারতকেই কালো তালিকায় ফেলার সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রে

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৭-০৩-২০২৫ ১০:৫৪:২২ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২৭-০৩-২০২৫ ১১:৫৭:২৯ পূর্বাহ্ন
সংখ্যালঘু নির্যাতনে ভারতকেই কালো তালিকায় ফেলার সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রে ফাইল ছবি
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনে অভিযোগ নিয়ে ভারত সরকার ও দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি যখন নানামুখী কথা বলছে, তাদের সমর্থনপুষ্ট মিডিয়ায় যখন একই ইস্যুতে সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে খবরের পর খবর প্রকাশ করছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশটির দিকে বুমেরাং হয়ে ফিরল সেই সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রসঙ্গ।

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) বলছে, ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে। তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে এই মার্কিন সংস্থাটি বলছে, সংখ্যালঘু নির্যাতনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ভারতকে কালো তালিকাভুক্ত করা।ইউএসসিআইআরএফের সুপারিশে বলা হয়েছে, খালিস্তানপন্থি নেতাদের হত্যার ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ততা রয়েছে ভারতের গুপ্তচর সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)- এর। তাই প্রতিষ্ঠানটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিতমঙ্গলবার (২৭ মার্চ) ইউএসসিআইআরএফ তাদের নতুন প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি নিয়মিত, চলমান এবং গুরুতর ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনে জড়িত। ২০২৪ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দল (বিজেপি) হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠদের কাছ থেকে ভোট আদায়ের জন্য মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করেছিল। এই অপকর্ম নির্বাচনের আগে এবং পরে উভয় ক্ষেত্রেই নজরদারি এবং সাম্প্রদায়িক আক্রমণকে উস্কে দেয়।

ইউএসসিআইআরএফ বলেছে, নির্বাচনের পরে বিজেপি সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পক্ষে কথা বলার জন্য মানবাধিকার কর্মী, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য আইনের অপব্যবহার করেছে। দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ অসংখ্য ভবন কর্তৃপক্ষ সংখ্যালঘুদের সম্পদ ধ্বংস ও বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। বিতর্কিত রাম মন্দিরটি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের উপর নির্মিত হয়েছিল এবং মন্দিরের পবিত্রীকরণের পরে সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হয়েছিল। বিজেপি শাসিত ফেডারেল সরকার এবং তার প্রাদেশিক মিত্ররাও ইচ্ছামত ধর্মান্তর বিরোধী আইন পাস করেছে।

সংস্থাটির অভিযোগ, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর এজেন্টরা বিদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে শিখদের ওপর আক্রমণে জড়িত। ২০২৩ সালে নিউইয়র্কে একজন মার্কিন নাগরিককে হত্যা করা হয়েছিল এবং অভিযোগ রয়েছে ‘র’ এর অভিযানের সময় তাকে হত্যা করা হয়েছিল।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালিস্তানপন্থি নেতাকে হত্যায় প্রধান সন্দেহভাজন বিকাশ যাদবসহ ‘র’ এজেন্টদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রে সংস্থার কর্মীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।এসব তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে ভারতকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের জন্য কালো তালিকায় ফেলার সুপারিশ করেছে ইউএসসিআইআরএফ।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স


এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ